কঠোর লকডাউনের মধ্যে পণ্য ওঠানামা পুরোদমে চালু রাখতে গিয়ে মূল পয়েন্টে পড়ে থাকা অফডকগামী ২ হাজার কন্টেইনার বন্দরের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একই সঙ্গে বিভিন্ন জাহাজ থেকে নামানোর অপেক্ষায় রয়েছে অফডকগামী আরও অন্তত ৩ হাজার কন্টেইনার। এসব কন্টেইনার দ্রুত না নেওয়া হলে চট্টগ্রাম বন্দরের কাজে অচলাবস্থার আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

বন্দরের কাজকে গতিশীল রাখতে এক দশকের বেশি সময় ধরে অনুমোদন নিয়ে কাজ করছে ১৮টি বেসরকারি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো বা অফডক। প্রথম দিকে মাত্র ৩৪ ধরনের পণ্য সেখানে খালাস হলেও এখন তা ৬০ এ গিয়ে পৌঁছেছে। বন্দরে আসা কন্টেইনার দ্রুত সময়ের মধ্যে অফডকে নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে অফডকগামী কন্টেইনার বন্দরের হুক পয়েন্টে ফেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

চট্টগ্রাম বন্দর সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, কোনো কারণবশত তারা যদি কন্টেইনার না নিতে পারে তাহলে সেটা স্বল্প সময়ের জন্য বন্দরে অবস্থান করতে পারে। তারপরই তাদের সেটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত। 

এ অবস্থায় ইয়ার্ডে জট এড়াতে কন্টেইনারগুলো দ্রুত নিজ নিজ অফডকে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলে জানান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
বন্দরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চালু থাকা অফডকগুলোর মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে, লকডাউনের কারণে পর্যাপ্ত বাহন না পাওয়ায় কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হলেও কন্টেইনার নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন অফডক মালিকদের সংগঠন-বিকডার সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন সিকদার। বলেন, ৪০ হাজারের মতো কন্টেইনার পড়ে আছে। তার মধ্যে ডিপোগামী কন্টেইনার ২ থেকে ৩ হাজার।   

সাইফ মেরিটাইম লিমিটেডের. চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির বলেন, কন্টেইনার নিয়ে গেলে চট্টগ্রাম বন্দর তার ইমপোর্ট ডিসচার্জিং এবং জাহাজ দাঁড়ানো ঠিক রাখতে পারবে। 

৪৯ হাজার টিইইউএস ধারণক্ষমতার বন্দরে বর্তমানে কন্টেইনার রয়েছে ৩৫ হাজারের বেশি। তবে, ক্রেন এবং লরি চলাচলের সুবিধার্থে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয় সবসময়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here