অপেক্ষার পালা শেষ! শুক্রবার থেকে আবারো মাঠে গড়াচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। কোয়ার্টার ফাইনালের বৈতরণী পার হয়ে কারা জায়গা করে নেবে শীর্ষ চারে? একক নৈপুন্যে কোন ফুটবলারই বা দলকে পৌঁছে দেবেন অভিষ্ট লক্ষ্যে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পটলাইটে থাকছেন কারা?

 

যেভাবে ইউরো শুরু হয়েছিল, সুইজারল্যান্ডের সেখান থেকে এই অবস্থানে আসা হয়তো কল্পনাতীত। স্পেনের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। অথচ এই দুই দলের লড়াই দিয়েই শুরু হচ্ছে কোয়ার্টার ফাইনাল। 

স্প্যানিয়ার্ডদের শীর্ষ আটের লড়াইয়ে এনেছে মূলত আলভারো মোরাতা। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তার করা অতিরিক্ত সময়ের গোলে লিডে আসে এনরিকের দল। এছাড়াও পাবলো সারাবিয়া, ফেরান তোরেসদে নৈপুণ্যেই সেমিফাইনালের স্বপ্ন তাদের। 

ইউরো থেকে হট ফেবারিট ফ্রান্সের বিদায়ের গল্পটা লিখা শুরু হয়েছিল হ্যারিস সেফারোভিচের হাত ধরে। গ্যাভরানোভিচের অবদানটাই বা কম কিসে? সুইসরা পেনাল্টিতে খেলা নিয়ে গিয়েছিলো তার স্কোরেই। পরের গল্পটা সবার জানা। অভিজ্ঞ জার্দান শাকিরির ভুমিকাও কম নয় প্রথমবারের মতো তাদের কোয়ার্টারে আসার পেছনে! 

বেলজিয়াম-ইতালির ম্যাচটা এবারের ইউরো কোয়ার্টার ফাইনালের হাইভোল্টেজ। তারকা খ্যাতির বাইরে থেকেও কীভাবে স্পটলাইটে আসতে হয়, তাই করে দেখিয়েছেন এডেন হ্যাজার্ড অনুজ ও থরগান হ্যাজার্ড। তার স্কোরিংয়েই বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। যদিও গ্রুপ পর্বের নায়ক রোমেলু লুকাকু।
ইতালি নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু তা প্রবল হয়েছে আজ্জুরিদের পারফরমেন্সে। লাজিও ফরোয়ার্ড সিরো ইমোবিলে সেখানে বড় নাম। এছাড়াও ম্যানুয়েল লোকাতেল্লি, ম্যাতিও প্যাসিনায় মন্ত্রমুগ্ধ ইউরো। তাদের সম্মিলিত প্রয়াসেই সমালোচকরা আবারো শিরোপা দেখছেন কিয়েল্লিনির হাতে। 

ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বে এবার চেক রূপকথা একাই লিখেছেন প্যাট্রিক শিক। বায়ার লেভারকুসেন তারকা বলতে গেলে দলকে একাই এনেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। দল টিকে আছে এমন সমীকরণে তার গোল সর্বোচ্চ চারটি। এছাড়াও থমাস হোলাসের ফর্ম চিন্তার কারণ হতে পারে প্রতিপক্ষের। 

ডেনমার্ক খেলছে ক্রিস্টিয়ান এরিকসনের জন্য। প্রথম ম্যাচে যে ট্র্যাজেডির জন্ম হয়েছিল, সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা খুঁজেছে ওরা। ক্যাসপার ডলবার্গ তাদের বড় তারকা। ওয়েলশ দুর্গ ধ্বংস করে তিনিই দলকে তুলেছেন শীর্ষ আটে। এছাড়াও ইউসুফ পৌলসেন, ক্রিস্টিয়ানসেনরা এই দলে অনুপ্রেরণার উৎস। 

ইউরোয় এবার ইংলিশ উপাখ্যান লেখা হবে কিনা কে জানে! কিন্তু যেভাবে ওরা জার্মানদের বিদায় করেছে তাতে ফাইনাল নিয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন সমীকরণ। তার রূপকার অবশ্যই রাহিম স্টার্লিং। দলকে একাই তিনি টেনেছেন শীর্ষ আট পর্যন্ত। সেখানে নতুন করে স্বস্তির সুবাতাস হ্যারি কেইনের গোলে ফেরা। 

ইউক্রেনের পথচলা অন্য সবার থেকে আলাদা। ঠান্ডা মস্তিষ্কে একদম সন্তর্পণে যেনো ওরা ছুটে চলেছে অভিষ্ট লক্ষ্যে। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ালেও সুইডেন পরেনি ওদের যাত্রা থামাতে। গেন্ট ফরোয়ার্ড রোমান ইয়েরেমচুক দলটির তুরুপের তাস। এছাড়াও আদ্রিয়া ইয়ারমোলেনকোও ওদের ভরসার নাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here