বিশেষ এ দিনটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) রাজধানী বেইজিংয়ে ৭০ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এ সময় তিনি পশ্চিমা দেশগুলোকে ইঙ্গিত করে বলেন, বেইজিংয়ের দিকে নজর দিলে তাদের কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে। 

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা চীনা নাগরিকরা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করি। যে কোনো হুমকি মোকাবিলা করতে সবসময় প্রস্তুত। কোনো হুমকি ধামকিতে আমরা ভয় পাই না। ভবিষ্যতেও পাবো না। সুতরাং আমাদের নিয়ে নাক গলানো বন্ধ করতে হবে। 

ভাষণে চীনা প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, চীনের জনগণ যে ‘নতুন পৃথিবী’ গড়ে তুলেছে তা প্রশংসার। পাশাপাশি যেসব বিদেশি বাহিনী দেশটিকে দুর্বল ভেবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে তাদের ‘মাথা চূর্ণ করে দেওয়া’ হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। শি চীনের সামরিক বাহিনীকে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, তাইওয়ানের ‘পুনর্মিলনের’ বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা বলেন এবং হংকং ও ম্যাকাওয়ের স্বায়ত্ত্বশাসনের ওপর জোর দেন। 

চীনা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, কেবল সমাজতন্ত্রই চীনকে রক্ষা করতে পারবে। একটি পরিমিত সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার মাধ্যমে চীন তার শতবর্ষী লক্ষ্য অর্জন করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

শতবর্ষ আগে ১৯২১ সালের ১ জুলাই চীনের কমিউনিস্ট পার্টি-সিসিপি প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর ১৯৪৯ সালে তারা চীনের ক্ষমতায় আসে। তারপর থেকে ৭২ বছর ধরে দলটি চীন শাসন করে আসছে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা নেতারা নিজেদের সফল বলে দাবি করলেও হংকংয়ে দমনপীড়ন আর মুসলিম সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কারণে বহির্বিশ্বে বেইজিং সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাছাড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বৈরথ চলছে দীর্ঘ দিন ধরে। 

সূত্র: রয়টার্স

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here