ফ্রান্সের ‘গতিময়’ নাকি জার্মানির ‘যান্ত্রিক’ ফুটবলের জয় হবে? দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা।
‘এফ’ গ্রুপের মৃত্যুকুপে আসরের অন্যতম মহারণে মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং তিনবারের ইউরোজয়ী জার্মানি। অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় দু’দলের ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়। বর্তমান পারফরম্যান্সে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও, দু’দলই সমীহ করছে একে অপরকে।   

এমন একটা ম্যাচের জন্য ফুটবল বিশ্বকে অপেক্ষায় থাকতে হয় কোয়ার্টার কিংবা সেমিফাইনাল পর্যন্ত। তবে ইউরোর গ্রুপপর্বেই সেই আক্ষেপ মিটতে যাচ্ছে ফুটবল ভক্তদের। ২০১৬’র ইউরোর সেমিফাইনালের পর আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স এবং জার্মানি। 

ম্যাচটা জার্মানির ঐতিহাসিক অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায়। তাই আশায় বুক বাঁধতেই পারে ডাই ম্যানশাফটরা। তাছাড়া এই আসরের পর ডাগআউট থেকে বিদায় নিবেন অভিজ্ঞ গুরু জোয়াকিম লো। তার জন্য আসরটা রাঙাতে চাইবেন গেনাব্রি, মুলাররা। 

পরিসংখ্যান কিংবা বর্তমান পারফরম্যান্স, এগিয়ে ফ্রান্সই। এখন পর্যন্ত খেলা ৩১ ম্যাচে ফরাসিদের জয় ১৪টি আর জার্মানদের ৯টি। ড্র হয়েছে ৮ ম্যাচ। তবে জার্মানির নতুনভাবে গড়ে তোলা দলটায় টনি ক্রুস, থমাস মুলারদের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে। তেমনি কাই হাভাৎর্স, টিমো ওয়ের্নার, আন্তোনিয়ো রুডিগার, ইকেই গুন্দোয়ানরা। গোলপোস্টে অভিজ্ঞ ম্যানুয়েল নয়্যার। লিরয় সানে, জশুয়ো কিমিচ গেনাব্রিদের নিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে জার্মানরা। এমন প্রত্যাশা তাদের। 
জার্মান কোচ জোয়াকিম লো বলেন, ‘আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে আসর শুরু করছি। প্রথম ম্যাচে জয় পেলে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। ওয়ের্নার, সানে, হাভাৎর্স, মুলাররা যা কিছু করতে সক্ষম। ফ্রান্সের চ্যালেঞ্জ আমরা নিতে প্রস্তুত।’ 

জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যার জানান, ‘এমবাপ্পে ছাড়াও ফ্রান্স দলটায় অনেক প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় পাওয়া কঠিন হবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্য়ান মিউনিখের হয়ে আমরা পিএসজিকে হারিয়েছি। তবে এটা জাতীয় দল। সেরা ফুটবল খেলতে হবে।’ 

কিলিয়ান এমবাপ্পে, অ্যান্তনি গ্রিজম, করিম বেঞ্জেমাদের নিয়ে সাজানো ফ্রান্সের আক্রমণ ভাগ বিশ্বের অন্যতম সেরা অ্যাটাক। দিদিয়ের দেশমের অধীনে দলটাও রয়েছে সেরা ছন্দে। এবারের ইউরোর অন্যতম ফেভারিট তারা। 

এবারের ইউরো জিতলে ফুটবলার এবং কোচ হিসেবে ইউরো এবং বিশ্বকাপ জেতা একমাত্র ব্যক্তি হবেন তিনি। মাঝ মাঠে পগবা, কন্তে, র্যা বিওট, হার্নান্দেজরা রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। কিংমপেম্বে, ভারানে, পাভাটরা যে কোনো সময় পাল্টে দিতে পারেন ম্যাচের চিত্র। আর গোলপোস্টে অভিজ্ঞ লরিস। কোচ আশাবাদী জয় দিয়ে আসর শুরু করার। 

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘আমরা ম্যাচের গুরুত্বটা জানি। কঠিন গ্রুপে আমাদের প্রথম ম্যাচ। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। জার্মানরা নিজেদের দলটা নতুন করে সাজাচ্ছে। তারা বেশ কিছু সিনিয়র ফুটবলারকে দলে ডেকেছে। তারা একটি শক্ত জাতীয় দল। তারা অনেকটা আত্মবিশ্বাসী থাকবে। আমরা দল হয়ে খেলব। আশা করি আমাদের চলমান ফর্ম এই ম্যাচেও ধরে রাখতে পারব।’ 

জার্মানির ‘যান্ত্রিক’ নাকি ফ্রান্সের ‘গতিময়’ ফুটবলের জয় হবে। তা দেখতে আরও কিছু সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সমর্থকদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here