মাওলানা আমিনুর রশিদ পটিয়াবী
স্মৃতিচারণ:
খতিব মাওলানা নুরুল ইসলাম সাহেব রহ. এর বিদায়ে বায়তুশ শরফে বিরাজ করছে একজন মুখলিস ও কর্মবীর ইমামুজ জিকরি ওয়াল ফিকরকের শুন্যতা।
বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, নাজেমে আ’লা, বায়তুশ শরফ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুহতারাম খতিব, ইমামুজ জিকরি ওয়াল ফিকর, বায়তুশ শরফ আন্জুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর মাননীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট, বায়তুশ শরফের সূর্যসন্তান, বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে যামান আল্লামা শাহ আব্দুল জব্বার রহ. এর সুযোগ্য উত্তরসুরী, আলহাজ্ব হযরত মাওলানা নুরুল ইসলাম ছাহেব রহ. একজন মুখলিস, বিনয়ী, আমানতদার ও উদারমনের অধিকারী ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। সর্বদা পরোপকারী ও দানশীলতার মাধ্যমে তিনি তাঁর জীবনকে করেছেন অবিস্বরণীয়। স্বীয় মুহতারাম পীর-মুর্শিদ ও শ্রদ্ধেয় আব্বাজানের অনুপ্রেরণায় তিনি উৎসর্গ করে দিয়েছেন নিজের জীবনকে বায়তুশ শরফ তথা খেদমতে খলকের তরে।

তিনি বায়তুশ শরফকে তাঁর শরীরের অবিচ্ছাদ্য অংশ হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন । তাঁর জীবনের সকল কর্মসুচীকে তিনি মকবুলিয়াতের দ্বারপ্রান্তে পৌছাতে চেষ্টা করে গেছেন ইখলাছের মাধ্যমে আজীবন। স্বল্প সময়ে বায়তুশ শরফে তাঁর অবদান, বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামজুড়ে হযরতের সাহসী (শিক্ষা-চিকিৎসা,পূনর্বাসন ও উন্নয়নের) যুগোপযুগী কর্মসুচী গ্রহন এবং তরীকতের সফল দীক্ষা ও কার্যক্রমের পরিচালনার মাধ্যমে নিজের জীবনকে স্বরণীয় ও বরনীয় করে রেখে গেছেন।।

এগুলো একমাত্র তাঁর এখলাছ, একনিষ্টতা অধিকন্তু আল্লাহ প্রেমের অনন্য অবদান। সত্যিই তিনি রাসুল স. এর বানী اخلص دينك يكفيك العمل القليل ( তোমার আমলকে খাঁটি কর, অল্প আমলেই নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে) এর একজন বাস্তব নমুনা।
আল্লামা জালারুদ্দিন রুমি রহ. বলেন
كعبه را هردم تجلّى مى فزود- اين ز اخلاصات ابراهيم بود
“কা’বার উজ্জ্বলতা দিন দিন বৃদ্ধিই পাচ্ছে । কারণ এটাতো হযরত ইব্রাহিম অ. এর এখলাছের ফসল।

তিনি ১৩৭৩ হিজরী মোতাবেক ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার অন্তর্গত কুমিরাঘোনা (বর্তমান আখতারাবাদ) গ্রামে এক সম্ভ্রন্ত ইলমী ও দ্বীনী পরিবারে জম্মগ্রহন করেন। তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতার নাম আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রশিদ সাহেব রহ.। যিনি বায়তুশ শরফ শরফের নিঃস্বার্থ কর্মবীর ও পুরোজীবন উৎসর্গকারী মুখলিস প্রধান জিকিরের ইমাম ছিলেন । মাতার শরফুন নেসা। যিনি একজন পরহেজগার মহিলা ছিলেন।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে বায়তুশ শরফের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আলম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতর ( হযরত কেবলা) রহ কুমিরাঘোনা শুভাগমন, কুমিরাঘোনায় মসজিদ-মাদরসার জন্য জায়গার ব্যবস্থা করণ এবং ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে বায়তুশ শরফের সর্ববৃহৎ ঈমানী, রূহানী অনুষ্ঠান“ কুমিরাঘোনা (আখতরাবাদ) “বার্ষিক ইসালে সাওয়াব মাহফিল”এর শূভ সুচনা হযরতের মুহতারাম আব্বাজান এর অক্লান্ত পরিশ্রম, উদ্যোগ ও ইখলাছেরই ফসল।

মুহতারাম খতিব সাহেব রহ, বায়তুশ শরফের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুল আলম আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মীর মোহাম্মদ আখতর (হযরত কেবলা রহ) এর মকবুল দোয়ার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। একনিষ্টতার বড়বৃক্ষ মুহতারাম পিতার এখলাছের এর এক অনন্য ফসল। বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে যামান আল্লামা শাহ আব্দুল জব্বার রহ. এর ইলমে মা‘রিফতের আলোতে আলোকিত আধ্যাত্মিক কর্মকান্ডের অদ্বিতীয় প্রতিচ্ছবি।

শ্রদ্ধেয় পিতার মুল্যবান অছিয়তই তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে নিয়েছেন “বায়তুশ শরফের খেদমতে নিজের জীবনোৎসর্গ করে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে ।

হযরতের শ্রদ্ধেয় পিতার ইন্তিকালের পূর্বে ডেকে অছিয়ত করেছিলেন: “ তোমরা আমার সাথে ওয়াদা কর , আজীবন বায়তুশ শরফের সাথে থাকবে, পীর সাহেবানের নির্দেশ মেনে চলবে এবং তরিকতের ও মেহমানদের খেদমত করতে আপ্রাণ চেষ্টা করবে। আমি যদিওবা তোমাদেরকে দুনিয়াবী ধন-সম্পদ দিয়ে যেতে পারছিনা, তবে বায়তুশ শরফের মত দরবার দিয়ে যাচ্ছি। এদরবারে সাথে মিশে থাকলে আশা করি ভবিষ্যতে অভাবগ্রস্থ হবে না এবং অপমানিতও হবে না।”

তিনি তাঁর কৃত ওয়াদাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে কোন দিন কোন রকমের সংশয়, দ্বিধা-দন্ধের জালে আবদ্ধ হন নি। পাত্তা দেন নি কোন অভিযোগ-আপত্ত্বিকে। আপস করেন নি কোন তাগুত বা মহলের সাথে। ক্লান্ত,অসুস্থতা, অভাব-অনটন, হুমকি-ধমকি কোন কিছুই বাঁধা হয়ে দাড়াতে পারেনি তাঁর চিন্তা-চেতনা ও কর্মসুচীতে। লোভ-লালসা,যশ-খ্যাতি সব কিছুকেই বিসর্জন দিয়ে একমাত্র রাব্বুল আ’লামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে বায়তুশ শরফের আধ্যাত্মিক ও তরিকত ভিত্তিক কার্যক্রম, শিক্ষা ও সেবামুলক কর্মসুচী মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দিতে দেশের এ প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ছুটেছেন অবিরাম। শরীরে ছিলনা কোন ক্লান্তি অনুভব করেন নি। ছেহেরায় ছিল না কোন বিরক্তির চাপ। হতাশা, অভাব –অনটন বাঁধা হয়নি কোনদিন তারঁ কর্মসুচীতে। নিজের জীবন-মরণ, মাল- সম্পদ, পরিবার –পরিজন সবকিছুই উজাড় করে দিয়েছেন বায়তুশ শরফের তরে। নিজের মুল্যবান রক্ত-ঘা ও অক্লান্ত মেহনত এবং নিজের জীবনের ওয়াকফের বিনিময়ে সাজিয়েছেন বায়তুশ শরফের এক একটি ফূল বাগান।
কবি বলেন,
تو مجمل از جمال كيسى – من مجمل از جمال حاجيم
تو مكمل ازكمال كيسى – من مكمل از كمال حاجيم
(তাঁকে প্রশ্ন করা হলো) ~তুমি কার সৗন্দয্যে এত আলোকিত হলে, তুমি কার উৎকর্ষতায় এত গুণান্বিত হলে। তখন তিনি বললেন, আমি আলোকিত হয়েছি আমার পীর মুর্শিদের সৌন্দর্যে, আমি গুণান্বিতহয়েছি আমার পীর-মুর্শিদের উৎকর্ষতায়।”

স্বীয় পীর-মুর্শিদ বায়তুশ শরফের প্রধান রূপকার হাদিয়ে যামান আল্লামা শাহ আব্দুল জব্বার রহ. ও তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা থেকে প্রাপ্ত ফুয়ুজাত এবং লিল্লাহিয়্যাত ও খুলুছিয়্যাতের এক অদৃশ্য প্রেরণা নিয়ে হযরত নাজেম সাহেব হুজুর রহ.১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে জিকির মাহফিল পরিচালনার গুরু দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি তার একনিষ্টতার শক্তিকে বুকে ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন জিকির মাহফিল তথা ইলমে মারিফতের কার্যক্রমকে শহর থেকে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ হতে ইন্তিকাল পর্যন্ত “চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ” সহ চট্টগ্রাম, পটিয়া, রাউজান, রাঙ্গামাটি, মাইনীমুখ, খাগড়াছড়ি, বাঘাইছড়ি সহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় ২৩টি মসজিদে প্রতিমাসে জিকিরের ইমামের দায়িত্বঅত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে পালন করেছেন। এছাড়াও বায়তুশ শরফের বাৎসরিক প্রধান মাহফিল সমুহে বিশেষ করে “কুমিরাঘোন ঈসালে সাওয়াব মাহফিল, কক্সবাজার ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম ঈসালে সাওয়াব মাহফিল” সহ সকল বড় বড় মাহফিলেও তারঁ চিত্তাকর্ষক জিকিরের তা’লিম প্রদান, করতেন তিনি।

সালাতুত তাহজ্জুদের আদায় পর লাখো আল্লাহ ও রাসুল স. প্রেমিকের ঈমানী ও রুহানী কন্ঠে শোনা যেত“االه الا الله. الله الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু) ও الله الله (আল্লা আল্লাহ) ” জিকিরের আওয়াজ এবং “ الله حاضرى . الله ناظرى (আল্লাহু হাজেরী- আল্লাহু নাজেরী”) র ‍এবং الهى انت مقصودى. ورضاءك مطلوبى . تركت الدنيا وما فيها . ربنا تقبل انك انت السميع العليم. وتُب علينا انك انت التواب الرحي (ইলাহী আনতা মাকসুদী, ওয়া রেজাউকা মাতলুবী, তারকতুদ দুয়িা ওয়ামা ফি-হা) ……..সু-মধুর জান্নাতী ধ্বনি। যে ধ্বনিতে পথহারা মানুষ খুঁজে পায় পথের দিশা, দুনিয়ার মোহে মুগ্ধ মানুষ হয় মোহমুক্ত। এই মোহ মুক্তি তাদেরকে নিয়ে যায় বাগদাদে, মক্কার পথে, মদিনার অলিতে গলিতে। এই পথ সরল পথ,সিরাতুল মুস্তাক্বিম তথা সরল পথ। এই পথ আল্লাহ ও রাসুলের পদর্শিত পথ।
ذٰلِكَ فَضْلُ اللهِ يُؤْتِى مَنْ يَشَاءُ

ইরানের প্রখ্যাত কবি ও দার্শনিক শেখ সা‘দী রহ. তাঁর অমরগ্রন্থ “গুলিস্তাঁয়” লিখেছেন,
اَقَلُّ الجِبَالِ طُوْرًا واِنَّهٗ- لَاَعْظَمَ عِنْدَ اللهِ قَدْرًا وَمَنْزِلً
অর্থ: ভুপৃষ্ঠের পর্বত সমুহের মধ্যে তুর পাহাড় ( সিনাই পর্বত ) অনেক ছোট,
কিন্ত সম্মান ও মর্যাদার দিক দিয়ে তা আল্লাহ তা‘য়ালার নিকট বড়।

তেমনিভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ প্রতিষ্ঠান সমুহকে বিশেষ করে “গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সটি” যদিও বাংলাদেশের এক অনগ্রসার দৃর্গম পাহাড়ী আঞ্চলে অবস্থিতি। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠান সমুহের মর্যাদা ও স্থান ছিল “ মরহুম প্রতিষ্ঠাতা বায়তুশ শরফের প্রধান রুপকার শাহছুফি আল্লামা আব্দুল জব্বার রহ.এর ” হৃদয়ের গভীরে।

তিনি যে দিন গাঁথাছড়ায় “গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ নামক খুলুসিয়্যাতের বৃক্ষটি” রোপন করেছিলেন, সে দিনই অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অর্পন করে দিয়েছিলেন তাঁর মহান মালিক, রব্বে কারিমের তরে সে বৃক্ষটিকে। সে ঐতিহাসিক (১৯৯০ সালের ২৫ সেপ্টম্বর, মঙ্গলবার) দিনে ভরাক্রান্ত হৃদয়ে আহাজারীর অশ্রুতেই বৃক্ষটির গোঁড়া ভাসিয়ে দিয়ে কবুলিয়্যাতের দ্বারপ্রান্তে নিয়েছিলেন তিনি।

গাঁথাছড়া নামক বৃক্ষস্থলে যখনেই আসতেন, আবার ফিরে যেতে অনেক কষ্ট পেতেন তিনি । বার বার ফিরে ফিরে তাকাতেন তিনি, সে অসহায় “খুলুছিয়্যাতের বৃক্ষটি”র দিকে। তিনি আশা করতেন “আমার এই “খুলুছিয়্যাতের বৃক্ষ”টি একদিন ফলে-ফুলে সুশোভিত হবে। ”তরিকায়ে আলিয়ায়ে কাদেরিয়ার” শিক্ষা খিদমতে খলকের প্রেরণা ও ইলমে মা‘রিফতের আলোর মশাল জালিয়ে দিবে মাতৃভুমি বাংলাদেশসহ বিশ্বময়। সে ফুল-ফলগুলো ঈমানের খোরাক জোগাবে মোমিনের হৃদয়ে হৃদয়ে। “লা ইলাহা ইল্লাল্লা” র দাওয়াত পৌছিয়ে দিবে পথ হারা মানুষের ঘরে ঘরে।

তিনি দোয়া করেছিলেন একজন “মুখলিছ, নির্লোভ কর্মবীরের জন্য এবং হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে গঠন করে পরোক্ষভাবে (ইলহামী) দায়িত্ব অর্পন করেছিলেন তাঁরেই পরীক্ষিত স্নেহের শাগরিদ ও সুযোগ্য উত্তরসুরী (মরহুম মাওলানা) নুরু (ল ইসলাম) কে। তিনি এই দায়িত্বকে “খাঁটি মনে, একনিষ্টভাবে” গ্রহণ করে নিলেন নিজের প্রাণের চেয়ে অধিক ভালবাসার বিনিময়ে।

হযরত খতিব সাহেব হুজুর রহ এর কাছে জানতে ছেয়েছিলাম কেন আপনি আপনার জীবনকে উৎসর্গ করলেন “এই পাহাড়ে,? কেন আপনার জীবন-মরণ, পরিবার-পরিজন, ধন-দৌলত,পদ-পদবীর মায়া ত্যাগ করলেন এই ‘গাঁথাছড়ার প্রেমে”। তিনি বলিষ্ট কন্ঠে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আরজ করলেন,“

আমি আমার জীবন-মরণ, পরিবার-পরিজন, ধন-দৌলত,পদ-পদবীকে ত্যাগ করেছি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল এর সন্তুষ্টি অর্জনে । আমার মরহুম পিতার সাথে কৃত ওয়াদা, ও আমার পীর-মুর্শিদের শিক্ষায় আমাকে বাতেনী চক্ষু খুলে দিয়েছেন। আমার মরহুম পীর সাহেব কেবলা রহ. স্বপ্নই আমার স্বপ্ন। তাঁর রোপনকৃত “খুলুছিয়্যাতের বৃক্ষ সমুহে” ইখলাছ” এর “পানি সেচন” করছি আমি পাহরাদার ভুমিকায়। । আমার তো চাওয়া পাওয়া কিছু নেই। আমার বলতে কিছুই নেই, আমিও বায়তুশ শরফের । বায়তুশ শরফের গোলামী করতে পারা এটাই আমার জন্য খোশ নসিব।” সুবহানাল্লাহ।

আলহামদুলিল্লাহ ! “ইলহামীভাবে” ১৯৯০ সালে স্বীয় মুর্শিদ কতৃক প্রদত্ত্ব দায়িত্ব পালনের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছেন।
বায়তুশ শরফের প্রতি ইঞ্চি-ইঞ্চি মাটি, কণা ও ধুলার সাথে নিজের জীবন-যৌবন, ঘাম ও রক্তকে মিশ্রন করে নির্মান করেছেন আল্লাহর বান্দাদের ইবাদতগাহ ও দরসগাহ । রাত-দিন অতুলনীয় ও অকল্পনীয় বিরামহীম পরিশ্রম করে এক ‍যুন্তরকারী ইতহাস রচনা করে গেছেন তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, গাঁথাছড়া-মাইনীমুখ, খাগড়াছড়ি ও বাঘাইছড়ি বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স সমুহ কালের স্বাক্ষী হিসেবে স্ব- স্ব স্থানে মুর্তিমান । তাঁর দায়িত্বশীর কর্মযজ্ঞ, দরদমাখা আবেদন, ভবিষ্যতমুখী পরিকল্পনা সর্বপরি ইখলাছ দোয়ার বদৌলতে মরহুম হুজুর কেবলা রহ.এর প্রতিষ্ঠালগ্নের সে দোয় ও আশা- আকাঙ্খার ফসল “খুলুছিয়্যাতের গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ বৃক্ষ”টি সহ সকল বৃক্ষ আজ ফলে-ফুলে সুশোভিত হয়েছে। ঘ্রানে ঘ্রানে মুগ্ধ করছে নিজ মাতৃভুমি ছাড়িয়ে বিশ্বময়। সে ফলগুলো থেকে কিছু অংশ ঈমানের খোরাক জোগাচ্ছে মোমিনের হৃদয়ে হৃদয়ে। “লা ইলাহা ইল্লাল্লা” র দাওয়াত পৌছিয়ে দিচ্ছে পথ হারা মানুষের ঘরে ঘরে।

তাঁর খুলুসিয়্যাত হেমনতের ভাস্বর আজও সে সব কমপ্লেক্সের মসজিদগুলো থেকে শুনা যাচ্ছে আল্লাহ -আল্লাহ জিকিরের ঈমান দীপ্তি কন্ঠ, বিতরণ হচ্ছে মাদরাসা সমুহ থেকে ইলমে নববীর দরসের আলো, সু-মধুর সুরে আল কোরআনের তেলাওয়াত চলছে অবিরত হেফজখানা সমুহে, প্রতিটি এতিমখানায় চলছে অনাথ-অসহায় শিশুদের আর্তনাথ। পার্বত্য জনপদে বিরাজ করছে একজন মানব দরদী, সমাজ সেবক, পরোপকারী মহান ব্যাক্তিত্বের শুন্যতা। আমরা মুখামুখি হয়েছি এক মুহসিন মরব্বী হারানো বেদনা ও যন্ত্রণায়। বায়তুশ শরফে বিরাজ করছে একজন মুখলিস ও কর্মবীর ইমামুজ জিকরি ওয়াল ফিকরকের শুন্যতা । জাতি হারালো একজন যুগ শ্রেষ্ঠ আলেমে দ্বীনকে।

সে মুখলিস প্রিয় আল্লাহর অলী ও মুহসিন মুরব্বী আমাদের সকলকে চির এতিম করে গত ২৬ রমজান, ১৪৪১ হিজরী মোতাবেক ২১ মে-২০২০ খ্রি. বুধবার, বেলা ১১.৪০ ঘটিকায় মহান রব্বে করিমের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন। ইন্না ল্লিাহি ওয়া…………..।
মহান আল্লাহ হযরতের সকল নেক আমলকে “সদকায়ে জারিয়া” হিসাবে কবুল করুন এবং তাঁকে জান্নাতের আ‘লা মক্বাম নসীব করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আ‘লামীন।

লেখক পরিচিতি:
খতিব, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, মাইনীমুখ।
সহকারী মাওলানা, গাঁথাছড়া বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ দাখিল মাদরাসা।
সভাপতি, লংগদু উপজেলা ইমাম সমিতি, লংগদু উপজেলা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here